মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র স্থল পথে ইরানে হামলা করতে পারে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে, এ ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন কিছুই জানায়নি । হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল, হতাশ এবং প্রায় পরাজিত বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, ইরানি পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা বা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি মন্তব্য করেন, এ উদ্যোগ অনেক দেরিতে এসেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করছে না।
ফ্লোরিডায় অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে দেওয়া সামরিক ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি কমছে না; বরং ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সামরিক অভিযান এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনের সময়ে এর পরিধি আরও বাড়তে পারে। তারা সতর্ক করে বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখা গেছে তা পুরো অভিযানের একটি অংশমাত্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন বাহিনী একাধিক কৌশলগত হামলা পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বি–২ বোমারু বিমানের আকাশ হামলা। এছাড়া ব্রিফিং শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে ড্রোন বহনকারী একটি জাহাজেও আঘাত হানার কথা জানানো হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, এসব অভিযানের ফলে ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান গতিতে এই সামরিক অভিযান দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালনা করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরবর্তী ধাপে স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র মূলত আকাশপথে কৌশলগত হামলার মাধ্যমেই সামরিক লক্ষ্য অর্জনের কৌশল অনুসরণ করছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে একটি পুরোনো বাস্তবতা বারবার প্রমাণিত হয়েছে, শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে কোনো যুদ্ধ পরিকল্পনাই অপরিবর্তিত থাকে না।